কাউন্সিলর পদ হারাতে পারেন হাজী সেলিমের ছেলে

সারাদেশে

অ’বৈধ অ’স্ত্র ও মা’দক রাখার দায়ে ঢাকা-৭ আসনের সাংদস হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে দুই মা’ম’লায় ৬ মাস করে ১ বছরের কা’রাদ’ণ্ড দেয়া হয়েছে।

ইরফান ও তার সহযোগীদের হাতে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মারধরের শি’কার হওয়ার জের ধরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা নাগাদ পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটে হাজী সেলিমের বাড়িতে অ’ভি’যান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রে’প্তারের পর এই দ’ণ্ড দেওয়া হয়।

ইরফানকে কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে কি-না জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইরফান সেলিম বা যে কোনো কাউন্সিলরের বি’রু’দ্ধে আ’দালত কর্তৃক এমন সা’জা প্রদানের অভি’যোগ সিটি করপোরেশন কতৃক লিখিত আকারে মন্ত্রণালয় পেলে অবশ্যই তার বিরু’দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাজী সেলিমের বাসার নিচে সোমবার সন্ধ্যায় র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, অ’বৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাস এবং মা’দক রাখা ও সে’ব’নের দায়ে ছয় মাস করে মোট এক বছর করে কা’রাদ’ণ্ডাদেশ দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

এ ছাড়া তার কক্ষ থেকে লাইসেন্স বিহীন বিদেশি অ’স্ত্র, একটি এক’ন’লা ব’ন্দু’ক, একটি ব্রি’ফ কেইস, ম’দ ও ই’য়া’বা উ’দ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অ’স্ত্র ও মা’দক আইনে পৃথক দুটি মা’মলা দা’য়ের করা হবে।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অ’বৈধ জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দেহরক্ষী মো. জাহিদের কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যা’বলেট উ’দ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮ থেকে ৪০টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

আশিক বিল্লাহ বলেন, এ ছাড়া আমরা তাদের কাছ থেকে গু’লি, হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং কন্ট্রোল রুম থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ভেরি হাই সিকিউরিটি সেট (ভিএইচএস) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এটা ওয়াকিটকির একটি আধুনিক সংস্করণ। এ ছাড়া ওই বাসায় টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সোয়ারিঘাটের দেবদাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অ’ভিযা’ন শুরু করে র‌্যাব। অ’ভিযা’ন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই চতুর্থ তলা থেকে ইরফান সেলিম ও তার দে’হর’ক্ষী জাহিদকে হে’ফাজ’তে নেওয়ার কথা জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। অভিযানে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।

অ’ভিযা’নকালে ওই বাড়িটিকে ঘিরে শত শত মানুষ জড়ো হয়। সাদা রঙের নয়তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে হাজী সেলিম নিজে এবং তার ছেলেরা থাকেন। হাজি সেলিমের তিন ছেলে। তার মেজ ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম থাকেন পঞ্চম তলায়। চতুর্থ তলায় থাকেন ইরফান সেলিমের স্ত্রী, বাড়ির দ্বিতীয় তলায় হাজি সেলিম এবং ষষ্ঠ তলায় থাকেন বড় ছেলে সুলাইমান সেলিম। ছোট ছেলে আশিক সেলিম অস্ট্রেলিয়ায় পড়ালেখা করেন। বাকি তলাগুলো ভাড়া দেওয়া রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, এছাড়া ওই বাসায় একটি ড্রোন, রাউটার, একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার বা ভিপিএস পাওয়া গেছে। এই ভিপিএস দিয়ে মূলত তার পুরো নেটওয়ার্কে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ট্র্যা’ক করতে না পারে। সাধারণত ভিপিএস ব্যবহারের অনুমোদন পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপ’ত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। বিটিআরসি এই অনুমোদন দেয়। তবে হাজী সেলিম কোনও অনুমোদন নেননি।

রোববার রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদকে মা’রধ’রের ঘটনায় সোমবার একটি মাম’লা হয় থানায়। তাতে ইরফান সেলিম ছাড়াও হাজী সেলিমের প্রোটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞা’ত পরিচয় আরও তিনজনকে আসা’মি করা হয়।