মেট্রোরেলের ৪০ টন মালামাল চুরি!

রাজধানীর শাহআলী এলাকা থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামাল চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। চোরাই ১৮টি আই-বিমসহ একটি ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্ধ করা হয়েছে।

এই ১৮টি বিমের ওজন ৪০ টন বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এসব পণ্য ট্রাকে করে সরানো হতো। তাদের কাছ থেকে চার লাখ ২৩ হাজার টাকা ও ১৬টি মোবাইল সেটও জব্দ করা হয়।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-৪ এর একটি দল শাহআলী বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটকের কথা জানায়।

মোতালেব শিকদার, নজরুল ইসলাম, হাবিব উল্লাহ ভুঁইয়া ও ওয়ালীউল্লাহ ওরফে বাবু চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সুমন ঘোষ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. আ. ছাত্তার, মো. আশিক ও আমজাদ হোসেন রাজন দালাল হিসেবে কাজ করতেন বলে জানানো হয়েছে। মো. মনির ও মো. রিয়াজুল এসব চোরাই পণ্য কিনতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও সরকারের আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবীমসহ অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরি করে আসছিল। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চোরাই মালামাল খণ্ড খণ্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙারি ও চাহিদাকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।

র‌্যাবের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি চার ধাপে চুরি কার্যক্রম চালায়। প্রথম ধাপের সদস্যরা ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ সদস্য।

তারা প্রকল্প এলাকায় কৌশলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই অনুযায়ী চুরির পরিকল্পনা করে থাকে। দ্বিতীয় ধাপে এদের একটি ‘সাহায্যকারী’ টিম রয়েছে। তারা প্রকল্পের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। সরাসরি চোর দলটিকে সহায়তা করা তাদের কাজ। তৃতীয় ধাপে রয়েছে ‘দালাল গ্রুপ’।

চোর দলের এ সদস্যদের কাজ হচ্ছে চুরি করা মালামালের পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে সহজে বহনযোগ্য করে থাকা। মূলত এই গ্রুপটিই চোর এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ করিয়ে দেয়।

চতুর্থ ধাপে রয়েছে ‘ক্রেতা চক্র’। এ গ্রুপের সদস্যরা সরাসরি চুরির সঙ্গে জড়িতদের কাছে তাদের চাহিদার কথা জানায় এবং চোরাই মালামাল কিনে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *