কাতারে মানবিকতার পুরস্কারে ভূষিত হল বাংলাদেশি তরুণ!

প্রবাস

বর্তমানে জীবিকার তাড়নায় অসংখ্য মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে ছুটে চলে। তবে সেখানে গিয়েও অনেকে সততার কারনে দেশের সম্মানকে উপরে তুলে নিয়ে যায়।

কাতারে গত কয়েকদিন আগে একজন অক্ষম ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করায় সম্প্রতি পুরস্কৃত হয়েছেন

বাংলাদেশি প্রবাসী তরুণ ইয়াছিন।দোহায় একটি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে অপেক্ষমান হুইলচেয়ারে বসা একজন ব্যক্তিকে দেখে নিজের মোটরবাইক পার্কিং করে হুইলচেয়ার ঠেলে তাকে পার করে দেন ইয়াছিন।

সেদিনের এই ঘটনার ছবি তুলে কেউ একজন তা শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এর পরপরই তা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

মানবতা এখনো বেঁচে আছে- এমন শিরোনামে টুইটার ও ফেসবুকে অসংখ্য ব্যক্তি তা শেয়ার করেন।ইয়াছিনের এমন মানবিকতায় মুগ্ধ হন কাতারবাসী। তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে তাঁর কোম্পানির কার্যালয়ে আসেন কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

তারা ইয়াছিনের এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করে তাঁর হাতে তুলে দেন নগদ অর্থ, হেলমেট, গ্লাভস, জ্যাকেটসহ সুরক্ষাসামগ্রীর প্যাকেট।

অনুভূতি জানাতে গিয়ে গালফ বাংলাকে আজ ইয়াছিন বলেন, এটুকু কাজের জন্য এতো বড় পুরস্কার পাবো, জীবনে কল্পনাও করিনি।আর ইয়াছিন যে কোম্পানির হয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন, সেই তালাবাত কোম্পানি তার মানবিক কাজের পুরস্কার হিসেবে তাকে প্রমোশন দিয়েছে।

পাশাপাশি তার মুখে সেদিনের গল্পটি তুলে ধরে বানানো হয়েছে ভিডিও যাতে এ থেকে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

ইয়াছিনের এমন মানবিক কাজে আপ্লুত কাতারবাসী। হৃদয়ের মানবিকতা ও উদারতায় বাংলাদেশ অনন্য, সেটিই যেন ইয়াছিন আবারও মনে করিয়ে দিলেন কাতারবাসীকে। গত কয়েকদিনে কাতারের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হয়েছে ইয়াছিনের ষবর।

ভিডিওতে ইয়াছিন বলেন, আমার বাবা বলে দিয়েছিলেন, তুমি যদি কারও উপকার করো তবে অন্যরাও তোমার উপকার

করবে। আমি সেই কথা মনে রেখেছি সবসময়। ইয়াছিনের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষীপুরে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি কাতারে বাস করছেন।